স্ত্রী’ ও নিজ কন্যা সন্তানকে হ’ত্যার দায়ে করা মা’মলায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় মা’থায় নিয়ে টানা ২০ বছর কারাগারের কনডেম সেলে কা’টানো বাগেরহাটের শেখ জাহিদকে নির্দোষ বলে খালাস দিয়ে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আ’দালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দু’একদিনের মধ্যেই আদেশের অনুলিপি কারাগারে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছেন আ’দালত।

আ’সামির আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ বলেন, জাহিদের বি’রুদ্ধে অ’প’রাধ স’ন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে জাহিদ কমডেম সেলে আছেন। আপিল মঞ্জুর হওয়ায় এখন তার কারামুক্তিতে বাধা নেই। আপিল বিভাগ রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে আ’সামিকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আ’দালত।

তবে, ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পেয়ে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হ’ত্যা মা’মলায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বহাল রেখে হাই’কোর্টের দেওয়া রায়ের বি’রুদ্ধে শেখ জাহিদের করা জে’ল আপিল শুনানি নিয়ে তা মঞ্জুর করে ২৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায় দেন।

আ’দালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযু’ক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ। আইনজীবীরা জানান, ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট থা’নার উত্তরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় রহিমা ও তার দেড় বছরের কন্যাশি’শু রেশমা খু’ন হয়।

পরদিন রাতে রহিমা’র বাবা ময়েন উদ্দিন ফকিরহাট থা’নায় নি’হতের স্বামী শেখ জাহিদের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা করেন। মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তার পরিবর্তন হয় সাতবার। ত’দন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর জাহিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগপত্র দেয় ত’দন্ত কর্মক’র্তা, যিনি ছিলেন অষ্টম।

মা’মলার এফআইআর অনুযায়ী জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে বাগেরহাটের ফকির হাট থা’নার উত্তর পাড়ার ময়েন উদ্দিনের মে’য়ে রহিমা’র সঙ্গে খুলনার রূপসা থা’নার নারিকেলি চাঁদপুরের ইলিয়াছ শেখের ছে’লে জাহিদ শেখের বিবাহ হয়।

জাহিদ শেখ ঘরজামাই থাকতেন। পরে জাহিদ-রহিমা’র সংসারে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নাম রেশমা খাতুন। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি হ’ত্যাকা’ণ্ডের তিন মাস আগে রহিমা-জাহিদ বাবার বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি পাকা ঘরে বসবাস শুরু করেন।

১৬ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রহিমা’র মা আনজিরা বেগম মে’য়ের বাড়িতে গিয়ে দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। বাহির থেকে ডা’কাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর কাঁথা ও লেপের নিচে বাচ্চাসহ রহিমাকে শোয়া অবস্থায় দেখতে পান।

কাঁথা সরানোর পর রহিমা ও তার মে’য়েকে মৃ’ত অববস্থায় দেখেন। মা-মে’য়ের গলায় মাফলার দিয়ে গিট দেওয়া ছিল বলে এফআইরআর-এ উল্লেখ করেন রহিমা’র বাবা ময়েন উদ্দিন। মা-মে’য়েকে মৃ’ত দেখে আনজিরা বেগম কা’ন্নাকাটি, চি’ৎকার শুরু করলে পাড়া-প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। ওইদিন সকাল ৯টার দিকে অনেকেই জাহিদকে টেম্পু করে খুলনার দিকে যেতে দেখেছে বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়। তবে, ময়েন উদ্দিনের অ’ভিযোগ জাহিদ শেখ তার মে’য়ে ও নাতনিকে রাতের যে কোনো সময় হ’ত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

আইনজীবী সারোয়ার আহমে বলেন, ঘটনার পরের দিন জাহিদ শেখকে আ’সামি করে মা’মলা করেন রহিমা’র বাবা ময়েন উদ্দিন। আ’সামির বি’রুদ্ধে ময়েন উদ্দিনের অ’ভিযোগ জাহিদ শেখ তার স্ত্রী’ ও দেড় বছরের মে’য়েকে খু’ন করেছে। ৩০২ ধারার অ’ভিযোগ। তবে এ মা’মলার ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষ ছিল না।

রাষ্ট্রনিযু’ক্ত আইনজীবী বলেন, ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর এ মা’মলার অ’ভিযোগপত্র দেয় পু’লিশ। তার আগেই ওই বছরের ১৮ জানুয়ারি আ’সামি আত্মসম’র্পন করে। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৯ সালের ২০ জুন আবার জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পু’লিশ কবে আবার তাকে গ্রে’ফতার করে তা জানেন না বলে জানান আ’সামি পক্ষের আইনজীবী।

তবে আইনজীবীর তথ্যমতে, এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের তিন বছরের মা’থায় ২০০০ সালের ২৫ জুন বাগেরহাটের জে’লা দায়রা জজ আ’দালতের দেওয়া ফাঁ’সির রায়ের বি’রুদ্ধে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর জে’ল আপিল করেন। সে হিসাবে আ’সামি জাহিদ শেখ ২০ বছর ধরে কারাগারে আছেন বলে জানান রাষ্ট্রনিযু’ক্ত আইনজীবী সারওয়ার হোসেন। ডেথ রেফারেন্স (মৃ’ত্যুদ’ণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) ও জে’ল আপিলের শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই ফাঁ’সি বহাল রেখে রায় দেন হাই’কোর্ট।

ওই বছরেই ২৯ ডিসেম্বর হাই’কোর্টের রায়ের বি’রুদ্ধে আ’সামি জাহিদ শেখ জে’ল আপিল করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে। গত সপ্তাহে সে আপিলের শুনানির পর মঙ্গলবার রায় দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আ’দালত। এমন খালাস পাওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন আ’সামিপক্ষের আইনজীবীও।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলছেন, একজনের জীবন থেকে কনডেম সেলে ২০ বছর হারিয়ে যাওয়া ক’ষ্টের। যারা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here