আবুল কাশেমঃ-

রাজধানী ঢাকার অদুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদে বারবার জাতীয় পাটি এবং বিএনপির প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
জামাত বিএনপির সেই দুর্গ ভেঙে ২০১৬ সালে আনোয়ার হোসেন আয়নাল আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে জয় ছিনিয়ে নেন, এরপর থেকেই হযরতপুর ইউনিয়ন এর ইতিহাস নতুন করে লিখা শুরু করেন তিনি।
আলোচনা সমালোচনার তোয়াক্কা না করেই হযরতপুর ইউনিয়ন বাসির ভাগ্য উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে চলেছেন অনবরত। চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল “টপ নিউজ”কে বলেন, আমি জন্মগ্রহন করি এই হযরতপুরে একটি সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে, আমি রাজনীতি করি নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য নয়, হযরতপুর ইউনিয়ন বাসির ভাগ্য উন্নয়ন এর জন্য, তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য ভালো কাজ করলে বদনাম হবে এটাই স্বাভাবিক, কে কি বললো তাতে আমার কিছু আসে যায় না, কাজ না করলে তার কোনো বদনাম নেই।

রাজনৈতিক দিক থেকে এলাকাটি এক সময় বিএনপির বড় ঘাটি ছিল । এখানে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন বা এখনো সক্রিয় তাদের অধিকাংশই বিএনপির শাসনকালে ছিল অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে, বাড়ি ঘর ছাড়া হয়েছেন তিনি”সহ আরো অনেকে।
রাজধানীর দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তের কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আয়নাল। স্বাধীনতার পর ২০১৬ সালে তার হাত ধরেই প্রথম আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির শাসনকালে এই এলাকায় বঙ্গবন্ধু বা আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া কিংবা প্রচারনা চালানোর মতো পরিবেশ পরিস্থিতি ছিলনা ।

বিএনপির স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী একসময় নৃশংসভাবে পিটিয়ে কুপিয়ে মৃতভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল আনোয়ার হোসেন আয়নালকে, জোর করে অস্ত্র হাতে তুলে দিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে ছিল তাকে। এমন চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আওয়ামী লীগের পুরো রাজনীতিটা ধরে রেখেছেন তিনি ।
চেয়ারম্যান হওয়ার পর সেই আক্ষেপ আর আকাঙ্খা থেকেই ইউনিয়ন পরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মূরাল তৈরি করেছেন। ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোতে এখন শোভা পায় বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্থানীয় ও জাতীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন। কেন তিনি জাতির পিতার মূরাল তৈরি করলেন তার পারিষদ ভবনে ।
চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল হোসেন এই প্রতিবেদক’কে বলেন,দীর্ঘ ৩৪ বছর বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে কোনো নেতাকর্মী পরিষদে আসতে পারেনি।আওয়ামী লীগের কেউ এখানে ন্যায্য বিচার পায়নি । সরকারি সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ।
ওই সময় থেকেই মনে মনে একটা সংকল্প করি যদি কোনো দিন চেয়ারম্যান হতে পারি তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মুরাল তৈরি করবো।যাতে ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে দেখতে পারে জাতির পিতার ছবি। তারা যাতে জানতে পারে যার জন্ম না হলে এই দেশ স্বাধীন হতো না। আমরা স্বাধীন ভাবে চলতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না। এবং ইউনিয়ন পরিষদে এসে যাতে এলাকার জনগন বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখতে পায় তাকে সম্মান জানাতে পারে সেই জন্য এই মুরালটি তিনি তৈরি করেছেন। আরো একটি লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক হিংসা নয় , সাধারণ মানুষের বঞ্চনা দূর করে বেশি করে সেবা ও সহযোগিতা বাড়াবো।

আনোয়ার হোসেন আয়নাল বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত। বিএনপি-জামায়াত আমাকে অত্যাচার নির্য়াতন করেও সেই আদর্শ থেকে দূরে সরাতে পারেনি ভবিষ্যতেও পারবেনা। সেই রাজনৈতিক দু:সময়ে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলাম, সেই থেকে তিল তিল করে নেতাকর্মীদের নিয়ে এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি বানিয়েছি।
আনোয়ার হোসেন আয়নাল ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ২০২০ সালে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে বঙ্গবন্ধুর মুরালটি স্থাপন করেন। এটি উদ্বোধন করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ শাহীন।
হযরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহের আলী জানিয়েছেন, বিএনপির সময় অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে থাকা তো দুরের কথা এলাকায়ই থাকতে পারেননি। স্বাধীনতার পর আয়নাল হোসেনই এই ইউনিয়নে একমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক ভাবেই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত। চেয়ারম্যান হিসেবে আয়নাল হোসেন ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন এবং করে চলেছেন।

ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ মনে করেন, চেয়ারম্যান হিসেবে আনোয়ার হোসেন আয়নালের অনেক আলোচনা সমালোচনা থাকতে পারে। তবে তিনি অন্য চেয়ারম্যানদের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে জনগনের সেবা ও উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here