Top news 24

টপ নিউজ 24

আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারিরা।

বকেয়া বেতন চাওয়ায় তা পরিশোধ না করে উল্টো তাদের একযোগে চাকরিচ্যুত করছেন কলেজ অধ্যক্ষ নিলিমা চন্দ। এরইমধ্যে ২৫ কর্মচারিকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

কর্মচারিদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য জানার কারণেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে কাজ করতেন সৌরভ আলী। টানা ৮মাস বেতন না পাওয়া সৌরভ এখন মানসিক ভারসাম্যহীন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় বিছানায় কাটে তার দিন। সংসারে এখন দু বেলা দু মুঠো ভাতের যোগান নিয়ে টানাপোড়েন। তাদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সৌরভের পরিবারের।

সৌরভের কান্না জড়িত কন্ঠে মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমার ছেলেটাকে যদি বেতন-ভাতা দেয় তাহলে খুব উপকার হয়।’

একই অবস্থা কলেজের অন্য কর্মচারিদের পরিবারেও। তারা জানান, বেতন বন্ধ করে হাত খরচের কিছু টাকা দিচ্ছে কলেজ প্রশাসন। এতে ঋণে জর্জরিত তারা। দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছে তারা। তাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসের গাছ কেটে বিক্রি, শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজবাস না কিনে শিক্ষকদের জন্য গাড়ি কেনা এবং এই গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন অধ্যক্ষ।

কর্মচারিরা জানান, তারা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে অথচ সেদিকে কেউ কোন নজর দেয় না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ্য নিলিমা চন্দ বলেন, ‘করোনার কারণে কোন ধরনের ভর্তি, পরীক্ষার ফি আদায়ের সুযোগ না থাকায় আমাদের ফান্ডে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। ফান্ডে স্বল্পতাা দেখা দেয়ায় আমার পক্ষে এতো মানুষকে রাখার সাধ্য আমার নাই। ক্রমাগত বেতন দিচ্ছিতো। যতাযথ কর্তৃপক্ষ এর তদন্ত করুক এবং সত্যাসত্য নির্ণয় করুক।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here