Top news 24

অনলাইন ডেস্ক

ভারত আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ দিয়ে সাহায্য করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এ যুদ্ধে ভারতের এক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য শহীদ হন।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই শুভ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মর্যাদাশীল ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কার- ২০২০’ এ ভূষিত করার জন্য। আমি মনে করি, তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করার মাধ্যমে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একজন যোগ্য নেতা এবং গান্ধীজির প্রকৃত অনুসারীকেই সম্মানিত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকার সুখে-দুঃখে সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে। এবারও আমাদের ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিচ্ছে। আমি নরেন্দ্র মোদি, তার সরকার এবং ভারতের জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এর আগে তারা আমাদের করোনাভাইরাসের টিকা উপহার দিয়েছেন। এবারও দিচ্ছেন। এজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশকে আদর্শচ্যুত করেছিল। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আদর্শহীন কোনো জাতি কিছু অর্জন করতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। ভারত শুধু আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রই নয়, ভারতের সঙ্গে আমাদের রয়েছে ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্যগত ও ভৌগোলিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে ভারতের সরকার এবং সেদেশের জনগণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের অত্যাচারের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশ-ভারতের মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এই যুদ্ধে ভারতের এক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য শহীদ হন। আমি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি তাদের আত্মত্যাগকে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণের যে আত্মত্যাগ, সাহায্য-সহযোগিতা তা কখনও ভোলার নয়। আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে সে অবদানের কথা স্মরণ করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের জনগণ ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুবোন জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যাই। আমাদের দেশে ফিরতে বাধা দিলে আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি। আমার পরিবার এবং আমার ছোটবোন শেখ রেহানাকে ভারত সরকার আশ্রয় দেয়।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্বাধীনতা সম্মাননা; প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাসহ ২২৫ ভারতীয় নাগরিককে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত করেছি। এই সম্মাননা আমরা তাদের দিয়ে নিজদের ধন্য মনে করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বর্তমানে আমাদের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদিজির ‘প্রতিবেশী সর্বাগ্রে’ নীতির প্রশংসা করি। বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের টিকা পাঠানোর মাধ্যমে মোদিজির এই নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। এই রাজ্যগুলো এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। ব্যবহার তারা করছেও। সেই সঙ্গে মোংলা বন্দরও তারা ব্যবহার করতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here