(যা না বললে সত্য রয়ে যাবে অন্ধকারে- বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয়েছিলো?
অধ্যক্ষ ড. গোলসান অারা বেগম)
এনামুল হক,কিশোরগঞ্জ,
বাংলাদেশের হৃদয় কেটে কেটে, পদ্মা মেঘনার অববাহিকা ঘুরে, ইতিহাসের ইতি অাদি খুঁড়ে সব জায়গায় বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাবেন।বাঙালির হাজার বছরের ক্লান্তি ঝেরে ফেলে দিয়ে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন, তিনি হয়েছেন বঙ্গের বন্ধু,বাঙালির অাপন স্বজন। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদের ধূলিবালি বলে বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। যতই করো চেষ্টা, কেউ পারবে তা অস্বিকার করতে? তারপরও যা না বললে সত্য রয়ে যাবে অন্ধকারে – বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয়েছিলো? বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মেধা, দুরদর্শি চিন্তা,ত্যাগ তিতিক্ষা, জনসেবা, গর্বময় নেতৃত্বের জন্য হয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি। শুধু শ্রম ঘামই ব্যয় করেননি বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে কথা দিয়ে কথার মর্যাদা রক্ষা করেছেন। তিনি বাঙালির ভাগ্যাকাশে উজ্জল ধ্রুব নক্ষত্রের মত উদয় হয়েছিলেন। মৃত্যু ভয় মাথায় নিয়ে সারা জীবন রাজনীতি করেছেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার পরও মৃত্যু ঝুঁকি থেকে রেহাই পাননি। দুই বার ফাঁসির মঞ্চেও গিয়েছিলেন মৃত্যুকে অালিঙ্গন করার প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু না,মৃত্যু তার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি। ১২ বছর সময় পাড় করেছে কারাগারের অন্তরালে। কেউ তার গায়ে নকের অাঁচড়ও ফেলতে পারেনি।বরং মাথা উচু করে, অত্যান্ত সাহসিকতার সঙ্গেই বাঙালির জাতিসত্ত্বা উদ্ধারের লড়াইয়ে ছিলেন অবিচল।তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে ছিলেন খুবই ধীর স্থির স্বভাবের ও দুরদর্শি মেধা সম্পন্ন। প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহনে রয়েছে ধৈর্য, সাহস ও সফল নেতৃত্তের প্রতিফলন। স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়ার জন্য সর্ব স্তরের জনগনের অাহ্বান থাকলেও নানা বিশ্লেষণে ছিলেন অনঢ়।৭ মার্চ লাখো মানুষের জনসমূদ্রে দাঁড়িয়ে কৌশলী যাদুমন্ত্রে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জনগনও সে ভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিলো জীবন বাজী রেখে স্বাধীকার অাদায়ের রণকৌশলের জন্য।বাঙালি কি চায়, নাড়ীর স্পন্দন কি বলছে, তা বুঝতেন। বঙ্গবন্ধুর চোখের গভীরে পুর্ব বাংলার মানুষ খোঁজে পেয়েছিলো বাঁচার অাশ্রয় ও মুক্তির শীতল ছায়া।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ত্বের প্রতি ছিলো গভীর অাস্থা। তাই লড়াই বিপ্লবে বাঙালি হাত খুলে সমর্থন দিতে কার্পন্য করেনি। ব্ঙ্গবন্ধু তাঁর কোমল হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই করছিলেন সাড়ে সাত কোটি জনগানকে ঐক্যবদ্ধ। তাঁর ছিলো অসাধারণ দেশ প্রেমের মোহনীয় অকর্ষণ ক্ষমতা। যেই এসেছে এই নেতার সংস্পর্শে , সেই বিমোহিত হয়ে পরিনত হয়েছিলো দেশ প্রেমের ও মুজিব অাদর্শের যোদ্ধা। তাই তো তাঁকে বলা হতো পয়েট অফ পলিট্রিস্ক।১৯৪৮ এ ছাত্রলীগ প্রতিষ্টার মাধ্যমে ওঠে অাসেন রাজনৈতিক উজ্জল অবস্থানে এবং বাংলা ভাষা অান্দোলনে জড়িয়ে তৎকালিন সরকারের রোষানলে পড়ে যান।এরপর শুরু হয় শেখ মুজিবকে কারাগারে অবরুদ্ধ রাখার পালা। ১৯৪৯ এ কারারুদ্ধ থাকা অবস্থায় অাওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, পরবতী পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত সধারন সম্পাদক, সধারন সম্পাদক, সর্বশেষ সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় কার্যক্রমে নানা ক্রাইসিসে পরলেও দমে যাননি।১৯৫৭ সালে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে রাজনীতির হাল ধরে ছিলেন।
ছয় দফা দাবীটি ১৯৬৬ সালে উত্থাপনের পর ক্ষমতাসীন সরকারের মাথা গরম হয়ে যায়। পুর্ব বাংলার অানাচে কানাছে ঘুরে ঘুরে বাঙালির মুক্তির মর্মবানী বঙ্গবন্ধু পৌছে দেন তৃণমূল মানুষের মণিকোঠায়। তখন অাগরতলা ষঢ়যন্ত্র মামলা দিয়ে ফাঁসির রঙ্গমঞ্চ চুড়ান্ত করে তৎকালিন সরকার।না, সফল হতে পারে নাই। উনসত্তরে মুক্তিকামী বাঙালি জনতা গন অভুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধার করে।এর পর অাসে এযাহিয়া সরকার, বাঙালিকে দমন নির্যাতনে যুক্ত হয় নব অাঙ্গিকের মাত্রিকতা।
বঙবন্ধুর রাজনৈতিক কৌশলের কাছে নতি স্বীকার করে এয়াহিয়া সরকার সত্তরের নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সে দিন বাঙালি সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে অাওয়ামী নেতৃত্ত্বকে সফলতার চরম শিকড়ে পৌঁছে দেয়।বিরাট সমথর্ন অর্জনের পর বাঙালির হাতে বাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া সাংবিধানিক ভাবে উচিৎ ছিলো।কিন্তু না, বাঙালিকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার জন্য পাকিস্থানীরা কূট ষঢ়যন্ত্রে মেতে ওঠে। নানা তালবাহানা করতে থাকে।
৩ মার্চ ১৯৭১ এ পার্লামেন্ট অধিবেশনের ঘোষনা দিয়েও,কোন কারন ছাড়াই বন্ধ করে দেয়। তখন পূর্ব বাংলার জনগণ এক দফা দাবী তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অঙ্গিকার নিয়ে রাস্তায় নেমে অাসে।৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবাবন্ধু বাঙালির পক্ষে চুড়ান্ত হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন ও ইশারা ইঙ্গিতে মুক্তিযুদ্ধের পট ভুমিকা তৈরী করেন।
বাঙালির জীবনে নেমে অাসে ২৫ মার্চ ১৯৭১ ভয়াল কলো রাত্রি। পাকি সরকার পাখির মত বাঙালিকে হত্যা করে রাস্তা ঘাট ভাসিয়ে দেয় রক্ত বন্যায়। নিরাপরাদ মানুষের রক্ত প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে বাঙালির মুক্তির অাহাজারি।পাকিস্তানীদের অাচমা অাক্রমনে সকল স্তরের মানুষ হত বিহ্বলিত হয়ে পড়ে। যার যা অাছে তা নিয়ে প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায় শহর বন্দর, রাস্তায় দুশমনের মুখোমুখী।শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর। ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর পাক হানাদার বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্তানে নিয়ে যায়। দখলদার পাকিস্থানী শক্রদের সঙ্গে নয় মাস ব্যাপি মুক্তিযুদ্ধ হয় বাঙালি মিত্রবাহিনীর । ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে, অাড়াই লক্ষ মা বোনের শম্ভ্রম হারিয়ে বাঙালি পায় রক্ত স্নাত লাল সবুজের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১২ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শাসন কার্যের দায়িত্ব গ্রহন করেন।মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ দেশটির উন্নয়ন সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছিলো।কিন্তু কিছু কুচক্রিমহলের পছন্দ হচ্ছিল না। তারা নানা কায়দায় ষঢ়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।

যাদের সাথে বঙ্গবন্ধু সারা জীবন অার্দশের রাজনীতি করতেন, তাদের কেউ কেউ চলে যায় বিপক্ষ অবস্থানে। তৈরী করে রাজনৈতিক বিভেদ, বৈষম্য। একাধিক গ্রোপে বিভক্ত হয়ে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে থাকে।খুব কাছের পরিচিতরা পরিকল্পনা করে বঙ্গবন্ধুকে পৃথিবী থেকে সরি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here