মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এ কথা ও বাস্তবতার
সাথে মিল আছে কতটুকু?
মোঃ জাকির হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি,TopNews24 bd.

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একথার সাথে বাস্তবতার
মিল নেই অনেকাংশে। কারন দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে একত্রিত ছিল এই বীর সন্তানরা।একত্রিক ছিল মুক্তি কামি আপামর জনতা।স্বাধীন বাংলার মানুষ একমাত্র নেতা হিসেবে চিনতো বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।আর একমাত্র দল হিসেবে জানতো আওয়ামীলীগকে।মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামীলীগ শব্দ দুটি ছিলো যেন একই
বৃত্তের দুটি ফুল।একেবারে মুদ্রার এপিট ওপিঠ। এমন ভাবে শব্দ দুটির মিল ছিল যেন একটি ছাড়া অন্যটি পরিপূর্ণতা পেতনা কখনো। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বিভক্ত করা হলো জাতিকে।
শুধু তাই নয় বিভক্ত করা হলো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তি যোদ্ধাদেরকেও। আর তখন দেশের পরিস্থিতি এতটা ভয়নক ছিল যে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলে তাদের উপর নেমে আসতো ভয়ানক নির্যাতন। এমনকি তৎকালীন সময়ে হত্যা করা হয়েছে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকেও।এমনও
পরিস্থিতি হয়েছিল যে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানাও রাখবেনা বাংলার মাটিতে। আর এমন পরিস্থিতিতে মুক্তি যোদ্ধাদেরকে সংগঠিত করার মত কোন সাহসী নেতাও
ছিলনা বাংলার মাটিতে। আর তখনই অনেক মুক্তিযোদ্ধা
প্রানের ভয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে নিজেদের শেষ পরিচয় টুকু কবর দিয়েছে নিজ হাতে। হায়রে ভাগ্যের পরিহাস। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় পত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে কিংবা তৎকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ না করার কারনে আড়ালে থেকে যাচ্ছে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম।প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলেও
তাদের কথার কোন মুল্য নাই এই স্বাধীন বাংলাদেশে।মুক্তি যুদ্ধ নাকরেও আজ অনেকেই হয়ে গেছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্দা। নাম আছে চুড়ান্ত তালিকায়। আর তাদের ক্ষমতার দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ দিশেহারা।আর এটার একটাই কারন সে হলো রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।
৭৫এর পরে যে দল ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজেদের সুবিধা মত তাদের আপনজন অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা
বানিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছিল রিতীমত
অপমানের। আর তারই ধারাবাহিকতায় অবহেলিত সাভার
পৌরসভায় বসবাস কারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মান্নান।
জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সব বৈধ
প্রমান পত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি আজ বৈষম্যের সীকার।তিনি
একজন রাষ্ট্রীয় সন্মানী ভাতা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওনার
আছে সাময়িক সনদ পত্র, আছে ২নং সেক্টর কমান্ডার কতৃক দেয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পত্র, আছে বিভিন্ন কমান্ডার এবং নিজের সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়ন পত্র। এত কিছুর পরেও এই যাছাই বাচাইতে রাখা হয়েছে খ তালিকায়
করতে হয়েছে আপিল আবেদন। কিন্তু ওনার একটাই দাবি ওনাকে এবং ওনার মত খ তালিকায় যারা আছে সবাইকে যেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর ভুক্তি করে গেজেট ভুক্ত করা হয়। আর স্বাধীন দেশে ওনার মত আর কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যেন
হয়রানির সীকার না হয়। সেদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী
এবং প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জোর দাবি
জানাচ্ছে। সেই সাথে আরও দাবি জানাচ্ছে দল মত নির্বিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেন তাদের প্রকৃত সন্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে।কোন রাজনৈতিক কারনে যেন
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুন্ন না হয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here