টপ নিউজ 24

সমকাল প্রতিবেদক

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কন্যা সন্তান হারিয়েছেন রাশিদা বেগম। ১১ বছরে ইসরাত জাহান আরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেনি। সেই থেকে কিশোরী মেয়েটি নিখোঁজ। গত ৫০ বছরেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি একমাত্র সন্তান হারানোর পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত রোগে মারা যান রাশিদা বেগমের স্বামী মোঃ ইয়াকুব (৯০) সন্তান ও স্বামী হারিয়ে রাশিদা এখন বড়ই অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্বামীর মৃত্যুর পর তার মিরপুরের বসতবাড়িটিও এখনো বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে এক ভূমিদস্যু।

৭৮ বছর বয়সী রাশিদা বেগমের কেউ না থাকায় নিজ ভবনে অন্য এক পরিবারের সঙ্গে থাকছেন তিনি। স্থানীয় একটি স্কুলে ইংরেজি সাবেক শিক্ষিকা রাশিদা বার্ধক্যের কারণে এখন চলাফেরাও করতে পারছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাশিদা বেগমের স্বামী মোঃ ইয়াকুব ছিলেন বিজি প্রেসে কর্মরত। রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সি- ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির পৌনে দুই কাঠার প্লটটি চাকরি জীবনে ক্রয় করেছিলেন ইয়াকুব। ১৯৬১ সালে কেনা জমিটির দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৮ সালে মিরপুর হাউসিং থেকে তাকে বিবেচনা পত্র লিস্ট দলিল দেওয়া হয় যার নম্বর – ৬৪৩৮।

২০১৬ সালে ব্রিজ ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করে পৌনে দুই কাঠা জমির উপর ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ইয়াকুবের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে মোহাম্মদ মামুন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। ভবনের পুরো ৬ তালায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন মামুন। বর্তমানে ছয় তলায় একাই পরিবার নিয়ে দখল করে আছেন মামুন।সেখানে গভীর রাতে চলে জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, মদ,জুয়া , ইয়াবা এমনকি বহির্ভূত নারী ও পুরুষের আড্ডা। ফ্ল্যাট ছাড়তে বললে জীবননাশের হুমকি দিয়ে রাশিদা বেগমকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন মামুন।

জানা যায়, মামনি স্ত্রী নাজমার বোন আসমা ইয়াকুবের বাসায় এক সময় কাজ করতেন নাজমা বেগমের ওপর দুই বোন আসমা এবং এখন ওই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে বিভিন্ন তলায় থাকছেন।ইয়াকুব এর মৃত্যুর পর নাজমা বেগম ইয়াকুবের পালিত কন্যা দাবি করে এবং ভুয়া ওসিয়ত নামা মাধ্যমে জাল দলিল ও বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি করেন।ইয়াকুবের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের কারণে ভবনের দ্বিতীয় তলায় সামনের দিকের ফ্ল্যাটটি জৈনিক মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বিক্রি করেন রাশিদা।কিন্তু মামুনের বাধার কারণে সেখানে পরিবার নিয়ে উঠতে পারেনি মোয়াজ্জেম এরপর পুরো বাড়ি দখলের জন্য ২০১৮ সালে মোয়াজ্জেম হোসেনকে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) দেন রাশিদা।

গত সপ্তাহে মিরপুরে ঘটনাস্থলে গেলে বৃদ্ধ রাশিদা বেগম সমকালকে বলেন, আমার কেউ বেঁচে নেই । আমার বাড়িটি তোমরা রক্ষা করো । বাড়ি উদ্ধারের জন্য আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here