আবুল কাসেমঃ

সাভার থানাধীন হেমায়েত-পুর যমুনা ন্যাচারাল পিকনিক স্পটের সামনের জঙ্গল থেকে রবিউল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তির হাত-পা বাধা ক্ষতবিক্ষত রহস্যময় লাশ উদ্ধার করেছে সাভার থানা পুলিশ।
কে বা কারা গত ৫-ই অক্টোবর সন্ধার পর লস্কর রবিউল ইসলামকে হত্যা করে হাত-পা বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
পরের দিন ৬ -ই অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পথচারীরা ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভার বলিয়াপুর যমুনা ন্যাচারাল পিকনিক স্পটের সামনে রবিউল ইসলাম এর লাশ পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯) নাইনে ফোন করে সাভার মডেল থানা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ঘাটন করতে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থা।
নিহত ওই ব্যক্তির সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে,তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায় , লস্কর রবিউল ইসলাম এর বাড়ী নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানা, নড়াগাতি গ্রামের লস্কর মুসলিম মিয়ার ছেলে।
মৃত রবিউল ইসলাম সপরিবারে চিড়িয়াখানা চরোড মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজ বাড়িতে ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী ও আপন ছোট ভাইসহ বসবাস করতেন।
তিনি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের গেটের ডান পাশে খাবার হোটেলের ব্যবসা করতেন বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।

রবিউলের স্ত্রী বলেন, গত ৫ই অক্টোবর আনুমানিক বিকেল সাড়ে তিন টার দিকে বাসা থেকে সাভার ভাগ্নের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হয়ে যান তিনি।

এরপর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নিজ ফোন থেকে কল দিয়ে মেয়েসহ আমার সাথে কথা বলছেন সে সময় মেয়ে বলেন আব্বু আপনি কোথায় তিনি বলেন তোমার ভাইয়ের বাসায় মা আমি চলে আসবো টেনশন করো না।

এরপর আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে রবিউলের ব্যবহার কৃত মোবাইল থেকে কেউ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে বলেন এই ফোনটি যাঁর সে আর বেঁচে নেই তাকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁরা আপনার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদেরকে চিনি, তাদের ফোন নম্বর গুলো নিন আপনাদের উপকারে আসবে।

এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম নম্বর দেন তিনি, ফোনের এপাশ থেকে বারবার তার নাম জানতে চাইলে তার নাম কুদ্দুস বলে ফোনটি কেটে দেন, তারপর থেকে রবিউল ইসলাম এর ব্যবহারকৃত ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
তিনি এসময় আরো বলে, অজ্ঞাত ব্যক্তি জানান আপনার স্বামীর পর হাত-পা বাধা অবস্থায় হেমায়েত-পুর জঙ্গলে পরে আছে।
মৃত রবিউল ইসলাম এর স্ত্রী সাথে সাথে ফোন কলের বিষয়টি আত্মীয়স্বজনদের জানান। এরপর থেকে বিভিন্ন যায়গায় ফোন করে খোঁজ খবর নেওয়া হয় কোথাও সন্ধান পাওয়া যায়নি রবিউল ইসলামকে।
পরদিন ৬-ই অক্টোবর রবিউলের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেন সাভার মডেলথানা পুলিশ।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান,এ বিষয়ে ৬-ই অক্টোবর একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন,
আমরা মৃত রবিউল ইসলাম এর খুনিদের যেকোনো মুল্যে ধরতে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর রয়েছে এবং বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এটি একটি পৃর্ব পরিকল্পিত মাডার, যারাই ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁরা ঠান্ডা মাথায় রবিউল ইসলামের মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় বলে মনে করেন তিনি। মৃত রবিউল ইসলাম এর খালাতো ভাই
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার সাথে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকরের জোর দাবী করছি।এসময় তিনি সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আজ ৭-ই অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে রবিউলের ইসলামের মৃতদেহ হস্তান্তর করেন, মৃত রবিউল ইসলাম এর পরিবারের সদস্যদের কাছে।

মৃত রবিউল এর আত্মীয় স্বজনরা রবিউলের লাশ নিয়ে যায় চিড়িয়াখানা রোড মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সেখানে রবিউল ইসলামকে শেষ বারের মতো দেখতে জড়ো হয় শতশত মানুষ। দেওয়া হয় প্রথম জানাজা, জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াগাতির উদ্দেশ্যে বিকাল ৫টার সময় রওয়ানা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানাযায়।
নড়াইল জেলা নড়াগাতি গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে মৃত রবিউল ইসলাম এর লাশ দাফনকার্য সম্পুর্ন করা হবে।
এসময় প্রিয় মানুষ টিকে শেষ বিদায় জানাতে রাস্তার দুপাশে জড়ো হয় শতশত মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here