top news 24

ঢাকা প্রতিনিধি

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২১ জন নেতা–কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ শুক্রবার এ আদেশ দেন। রাজধানীতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা পৃথক মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, বংশাল ও কলাবাগান থানার পৃথক পৃথক ঘটনার মামলায় মোট ২১ জন নেতা–কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ। আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

পল্টন থানার একটি মামলায় পাঁচজনকে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শাহবাগের ছয়জনকে তিন দিন করে এবং বাকি আসামিদের দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, নাশকতার উদ্দেশ্যে আসামিরা বাসে আগুন দিয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, হয়রানি করার জন্য তাঁদের মক্কেলদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আসামিরা জড়িত নন।

পল্টন ও মতিঝিল থানার পৃথক চারটি মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জন, শাহবাগ থানার দুটি মামলায় ৬ জন, বংশাল থানার একটি মামলায় ২ জন এবং কলাবাগান থানার একটি মামলায় ২ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামি হলেন পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার আলীজাল আহমেদ, মো. মেহেদী হাসান, এ কে এম ফজলুল বারী, আলতাফ, নাঈম, আসিফ, হুমায়ুন, মাসুকুর রহমান ও রাশেদুজ্জামান; মতিঝিল থানার মামলায় আবদুর রহমান তাহের ও জাকির হোসেন; শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদ, আবু সুফিয়ান, সোহেল, হযরত আলী, মইনউদ্দিন ও আবু সাঈদ, কলাবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার মাহিদুর রহমান ও মাইন উদ্দিন চৌধুরী এবং বংশাল থানার মামলায় গ্রেপ্তার শফিউদ্দিন আহমেদ ও মেদু রহমান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৯টি মামলা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৪৬ জনকে। আসামিদের বেশির ভাগ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

মতিঝিল থানায় করা মামলায় আসামিদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ইশরাক হোসেন রয়েছেন। মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাগুলো করা হয়। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছেন। এসব মামলার বাদী সবাই পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন জানান, মতিঝিলে দুটি, শাহবাগে দুটি, পল্টনে দুটি এবং বংশাল, ভাটারা ও কলাবাগানে একটি করে মামলা হয়। গতকাল ও আজ শুক্রবার এসব মামলা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে একে একে ৯টি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাসের মধ্যে তিনটি সরকারি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উত্তর পাশে পার্ক করে রাখা একটি সরকারি বাসে প্রথম আগুন দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় ভাটারা এলাকায় আরেকটি বাসে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। রাতে আরও একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে বাসগুলোতে আগুন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে। যেসব বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, তাতে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনকে (গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়) কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here