টপ নিউজ 24

সারা দিন জুতার কারখানায় কাজ করে সন্ধ্যায় বাবার চায়ের দোকানে সময় দিতেন দুই ভাই। উদ্দেশ্য বাবাকে সহায়তার পাশাপাশি ঘরের অভাব দূর করা। আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটায় জুতার কারখানায় প্রবেশের আগমুহূর্তে দুই ভাইকে বহনকারী মোটরসাইকেলকে একটি বাস ধাক্কা দিলে বড় ভাই নিহত আর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ছোট ভাই।

নিহত তরুণের নাম মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ (২৪)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক গ্রামের আনোয়ার হোসেন শাহের ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট ভাই রায়হান উদ্দিন শাহ (১৮)। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন নিহত পারভেজ।পারভেজ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁর ছোট ভাই রায়হানও একই কারখানায় চাকরি করেন।আজ সকাল সাড়ে সাতটায় পারভেজ তাঁর ছোট ভাই রায়হানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কারখানায় যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি ২ নম্বর গেট পার হয়ে কারখানায় প্রবেশের আগমুহূর্তে শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া একটি দ্রুতগামী বাস ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়েন দুই ভাই। এ সময় মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে চলে যায়। উপস্থিত লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভেজকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় পারভেজ ও রায়হানদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, মা ছেমন আরা বেগম মূর্ছা যাচ্ছেন। পারভেজের বাবা, ছোট ভাই আবদুর রহিম শাহসহ (৮) সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন পারভেজের লাশ আনতে আর আহত রায়হানের সেবা–শুশ্রূষা করতে।

পারভেজের ফুফু ফেরদৌস আরা বলেন, সংসারের অভাব দূর করতে চাকরিতে যাওয়ার আগে সকালে ও চাকরি শেষে রাতে বাবার দোকানে সময় দিতেন পারভেজ। এখন পুরো পরিবারটাই তছনছ হয়ে গেল।

ছোট বোন রিংকি আখতার (১৬) বলে, ‘আমার ভাইয়ারা সময় নষ্ট না হওয়ার জন্য ঋণ করে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনে। এখনো মোটরসাইকেলের ১০ হাজার টাকা বকেয়া আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here