top news 24

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারীর খাদ্যনালি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওই নারীর স্বামী সোহেল হাওলাদার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নওমালা ইউনিয়নের নিজ বটকাজল গ্রামের কৃষক সোহেল হাওলাদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জাহানারা বেগম ২২ সেপ্টেম্বর বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। তখন হাসপাতালের নার্স শিরীন আক্তার তাকে ডায়লেশন অ্যান্ড কিউরাটেজ (ডিঅ্যান্ডসি) করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি নিজেই ওই নারীর ডিঅ্যান্ডসি করেন। ডিঅ্যান্ডসি করার সময় নার্স জাহানারা বেগমের পেটের ভেতরের অংশে খাদ্যনালির একাধিক অংশ ছিদ্র করে ফেলেন তিনি। তখন সেখানে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন না।
খাদ্যনালি ছিদ্র করে দেওয়ার পর জাহানারা বেগমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং মলমূত্র পেটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্বজনরা জাহানারা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের মোকলেছুর রহমান হাসপাতালে নিয়ে যান।

জাহানারা বেগম বর্তমানে ওই হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. শাহ আলম তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে ডা. শাহ আলম তালুকদার বলেন, ‘ডিঅ্যান্ডসি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালির নিচের একাধিক অংশ ছিদ্র হয়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য তার পেটের বাইরে একটি ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর তাকে ফের অপারেশন করা হবে।’

ওই নারীর স্বামী সোহেল হাওলাদার জানান, জাহানারা বেগমের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ঋণ করে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ করেছেন। এখন আর তার সামর্থ্য নেই।

সোহেল হাওলাদার মঙ্গলবার নার্স শিরিন আক্তারের বিচার দাবি করে বাউফল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে নার্স শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমার ভুল হতেই পারে। এ ব্যাপারে জাহানারা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপরও আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিল বুঝতে পারছি না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here