তৃণমুলের নেতাকর্মীরা- কুলাউড়া আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ ক দৌড় ঝাপ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ মৌলভীবাজার, রাজনীতি,

আকাশ আহমেদ কুলাউড়া প্রতিনিধি : সিলেট বিভাগের আলোচিত রাজনৈতিক সচেতন এলাকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ-এর রাজনৈতিক পদ-পদবী পেতে। সম্মেলনের দশ মাস পর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকায় স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ ঘরনার নেতৃবৃন্দরা। বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান করে নিতে অবসরপ্রাপ্ত সচিব থেকে শুরু করে ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রবাসীরাও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা থেকে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক অনেক নেতাকর্মীরাও লবিং করছেন জোরেসুরে। রাজনৈতিক সচেতন হিসেবে এই কুলাউড়া দেশের মধ্যে আলোচিত একটি এলাকা। এখান থেকে যেমন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক সময়ের ডাক সাইটের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ আবার বর্তমানেও নেতৃত্বে রয়েছেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (সাংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ)। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দলের কারনে বিগত সময়ে সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর চরম ভরাডুবির ইতিহাসও রয়েছে। তবে স্থানীয় ও তৃণমূল আওয়ামীলীগের শোভাকাঙ্খীরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সৎ, ত্যাগী ও দলের জন্য নিবেদত কর্মীরা কমিটিতে স্থান পেলে এবং অতীতের সকল বিভেদ ও গ্রুপিং দ্বন্ধ ভূলে গিয়ে একটি স্বচ্ছ ও আদর্শিক নেতৃত্বের কমিটি গঠন হলে কুলাউড়া তাঁর হারানো দিনের নৌকার ঐতিহ্য ফিরে পাবে। তৃণমুল আওয়ামীলীগের অনেকেই মনে করছেন দলীয় পদে থেকেও বিগত নির্বাচনে নৌকা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন এমন নেতৃবৃন্দকে পুর্নাঙ্গ কমিটিতে যেন স্থান না দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সম্মেলনের পর অনেক নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেন ও অনেকে প্রবাসে চলে যাওয়া এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের মতানৈক্য ও গ্রুপিংয়ের কারণে কুলাউড়া আওয়ামীলীগের ছন্দপতন হয় নেতৃত্বে। যার প্রভাব পড়েছে ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী (সুলতান মনসুর) জয়ী হলেও ২০০১ সালের পর থেকে নৌকার ভরাডুবি ঘটে বিভিন্ন নির্বাচনে। কেন্দ্রের নির্দেশে প্রায় ১৫ বছর পরে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আওয়ামীলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের উপস্থিতিতে সম্মেলন এবং কাউন্সিল অধিবেশনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাউর রহমানের কাছে উপজেলার কাউন্সিলাররা কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিলে জেলা নেতৃবৃন্দ কুলাউড়া আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুকে সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমানকে সহ-সভাপতি, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.স.ম কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ও সাবেক উপজেলা সভাপতি আব্দুল মতিনকে সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েলকে সদস্য করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। তিন মাসের ভিতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও করোনা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গত দশ মাসে উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভবপর হয়নি। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গুলো পূর্ণাঙ্গ করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভিতরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে তালিকা জমা দেবার নির্দেশনা প্রদান করেন কুলাউড়া নেতৃবৃন্দকে। এদিকে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে বর্তমান দায়িত্বশীলরা তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সাবেক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি আদর্শিক শক্তিশালী কমিটির খসড়া তালিকা তৈরির কাজ জোরেসোরে চালাচ্ছেন। এই কমিটির বিভিন্ন পদে স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা।

স্থানীয় এবং সাবেক একাধিক নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আসন্ন কমিটির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামীলীগের অবশিষ্ট ৬৬ পদে ৮টি সহ-সভাপতি, ৩টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৩টি সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সম্পাদকীয় পদ ও সদস্য পদে স্থান করে নিতে যারা আসতে পারেন বা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সচিব মিকাইল শিপার, মো: আব্দুর রউফ, অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমেদ, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, সিনিয়র সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, ডাঃ রুকন উদ্দীন আহমদ, মবশ্বির আলী, ফারুক আহমদ, অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান, অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু, গৌরা দে, শফিউল আলম শফি, অধ্যক্ষ মো: আব্দুল কাদির, ফজলুল হক ফজলু, মনসুর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক সিএম জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রব মাহবুব, আব্দুল মজিদ মনু, আলহাজ¦ মছদ্দর আলী, খোরশেদ আলী, আব্দুর রউফ তুতি, আব্দুল বারী, খালেদ পারভেজ বখ্স, আইয়ুব আলী, লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মোঃ ইউনুছ আলী, কামাল হাসান, মোঃ আব্দুল মালিক, নুরুল ইসলাম খান বাচ্চু, খায়রুল ইসলাম সুন্দর, তফাজ্জল হোসেন চিনু, ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি, মো: মমদুদ হোসেন, বদরুল ইসলাম বদর, , আব্দুল মালিক, আকবর আলী সোহাগ, মনির আহমদ চৌধুরী, জাফর আহমদ গিলমান, এম এ রহমান আতিক, সেলিম আহমদ, আব্দুল আহাদ, সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম, নছিমুর রহমান নসিম, নবাব আলী সাজ্জাদ খাঁন, ফয়জুর রহমান ফুল, আব্দুল আজিজ, ফুজায়েল আহমদ, তাজ খাঁন, মুহিবুল ইসলাম আজাদ, মোজাহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মোঃ লোকমান মিয়া, আব্দুস সহিদ, ময়নুল ইসলাম সোহাগ, ময়নুল ইসলাম সবুজ, সাইদুর রহমান লনু মাস্টার, এড. আজিজুর রহমান, বিদ্যাসাগর গোয়ালা, সত্য নারায়ণ নাইড়ু, সাইফুল ইসলাম, মোস্তাক আহমদ, মাহবুবুর রহমান মান্না, জামাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তরিক, আব্দুল্লা আল মনি, মোঃ জীবন রহমান, মোসাদ্দে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here