তানোরে গির্জায় কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় বিচার করে সমালোচনায় প্রধান শিক্ষক কামাল মার্ডি

সারোয়ার হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে বহু আলোচিত গির্জায়(শিশু) কিশোরী ধর্ষনের ঘটনায় গোপনে ধামাচাপা দিতে সেই দিনই গির্জায় মুন্ডুমালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামিল মার্ডি বিচার সালিশ করে ধর্ষক ফাদারের ২হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষণের শিকার পরিবারকে দিয়ে ফাদারকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একজন প্রধান শিক্ষকের এমন জঘন্য ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ঘটনায় উপজেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য ও বইছে সমালোচনার ঝড়।

অন্যদিকে ধর্ষণের মত জঘন্যতম ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক কামাল মার্ডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উঠেছে জেলা উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ঝড়। মুন্ডুমালা মাহালী পাড়া গ্রামের রনজু শাহ বলেন, অনেক আগে থেকেই ফাদার কুকর্ম করে আসছে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনা। ফাদারের সাথে কামিল মার্ডি স্যার তার সব কিছু সমাধান করেন। তবে ধর্ষণের ঘটনায় থানা পুলিশকে না জানিয়ে ফাদারের পক্ষে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা ঠিক হয়নি স্যারের। আমরা এবিষয়ে স্যারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, এমন অভিযোগ শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি,তার পরেও আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবো বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়ায় সাধুজন মেরী ভিয়ান্নী গির্জায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষণের অভিযোগ গির্জাটির ফাদার প্রদীপ গ্যা গরীর (৫০) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও রাজশাহীতে র্্যাবের হাতে গ্রেফতার হন ফাদার প্রদীপ গ্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার আদিবাসী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওই কিশোরী গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশে ওই গির্জার পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরদিন রবিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ভাই। এরপর সোমবার দুপুরের পর জানা যায়, নিখোঁজ কিশোরী গির্জার ফাদার প্রদীপের ঘরে বন্দি অবস্থায় আছে। পরে কিশোরীর পরিবারের সদস্য এবং এলাকার লোকজন ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন। এরপর সন্ধ্যায় গির্জার ভেতরেই শালিসি বৈঠক বসে। সেখানে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ফাদার প্রদীপকে অপসারণ করে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়। আর ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে গির্জার ভেতরে সিস্টারদের কাছে রাখা হয়। আর বলা হয়, ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা থানা থেকে নিখোঁজের জিডি প্রত্যাহার করে নিলে তাকে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।

এছাড়া সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত ওই কিশোরীর খরচ বহন করবে গির্জা কর্তৃপক্ষ। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ওই কিশোরীর ভাই থানায় গিয়ে জানান তার বোনকে পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরও ওই কিশোরীকে পরিবারের কাছে দেয়া হয়নি। গির্জার প্রধান ফাদার প্যাট্রিক গমেজ ও শালিসি বৈঠকের প্রধান কামেল মার্ডি তাকে আটকে রেখেছিলেন।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো গির্জা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন। তারপর থেকে ফাদার প্রদীপ পলাতক ছিলেন।

সারোয়ার হোসেন
০১ অক্টোবর /২০২০ইং

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here