গাজীপুরেও জয় পেল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি : 

খুলনার পর এবার গাজীপুরেও জয় পেল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বহুল কাক্সিক্ষত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিল। নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ৩,৫৬,৩৯৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১,৭০,৮৫৫ ভোট। মোট ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ৪১৬টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ভোটের বড় ব্যবধানেই গাজীপুরে জয় পেল আওয়ামী লীগ।

এর আগে গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বড় ভোটের ব্যবধানে জয় পায় আওয়ামী লীগ। সেখানে মেয়র পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন নৌকা প্রতীক নিয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬। গতকাল অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে এই সিটির মেয়র পদ পুনরুদ্ধার করল আওয়ামী লীগ। এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচিত হন। টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত এই প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৪ দল সমর্থিত আজমত উল্লা খান (দোয়াত কলম)। মোট ৩৯২ কেন্দ্রে মান্নান ভোট পেয়েছিলেন ৩,৬৫,৪৪৪ ভোট। আর আজমত উল্লা খান পান ২,৫৮,৮৬৭ ভোট। ব্যবধান ছিল ১,০৬,৫৭৭ ভোট। মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও নানা মামলা মোকদ্দমার কারণে গত পাঁচ বছরের অধিকাংশ সময় এম এ মান্নান কারাগারে ছিলেন। তার পক্ষে এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।

রাতে ভোট গণনা শেষে গাজীপুর উৎসবের নগরীতে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসে। রং ছিটিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করেন তারা। গভীর রাত পর্যন্ত এ উৎসব চলতে থাকে। এ সময় পরস্পরকে মিষ্টি খাওয়ান সমর্থকরা। বিশেষ করে জয়দেবপুরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে ঢল নামে মানুষের। টঙ্গী, শ্রীপুর, গাজীপুর সদরসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে ওঠে। অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে জয়দেবপুরে নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বাসার সামনে।

বহুল কাক্সিক্ষত এই জয় পেতে নানা হিসাব-নিকাশ কষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেন। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও শেষ পর্যন্ত দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ও আজমত উল্লা খান দলের মনোনয়ন পান। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হেরে যায় আওয়ামী লীগ। ফলে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে মনোনয়ন দেন এবং তার দিকনির্দেশনায় প্রচারণা চালায় দল। এমনকি তিনি খুলনার কৌশলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আদেশ দেন।

একেবারেই শেষ মুহূর্তে এসে এই নির্বাচন ঘিরে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয় রাজনীতিতে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নে নানা বিষয়ে পরস্পরেরর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকির অভিযোগও ওঠে। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির আশঙ্কা করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী। এমনকি ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কমিশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা করা হয়। পক্ষান্তরে বিএনপির বিরুদ্ধেও ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অনিয়মের আশঙ্কা করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। গাজীপুর ছাপিয়ে এই নির্বাচন গোটা দেশের মানুষের আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শেষ লড়াই লড়তে ভোটের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে শেষ পর্যন্ত অটল থাকে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মুখে নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা বললেও ভোটের দিন দলের এজেন্টদের অনুপস্থিতিও চোখে পড়েছে। সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রস্তুত ছিলেন ভোটররাও। শেষ পর্যন্ত কে হাসেন জয়ের হাসি; সেদিকেই ছিল সবার নজর।

শেষ পর্যন্ত এসব আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করে বলতে গেলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল নির্বাচনী এলাকায়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। দিনের শুরুতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচনে বড় ধরনের গোলযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে জোর করে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরার চেষ্টা ও অনিয়মের ঘটনায় নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন মন্ডল জানিয়েছেন। এ ছাড়া আরও বিছু কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম, এজেন্টদের বাধা ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নগরীর কাসেমপুরে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী হাক্কানিয়া ছালেহিয়া আলিম মাদরাসায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

সকাল সোয়া নয়টার দিকে গাজীপুরের ছয়দানায় কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন বিজয়ী মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে যে রায় দেবেন, সেই রায় আমি মেনে নিতে প্রস্তুত। জয়কে জয় আর পরাজয়কে পরাজয় মেনে নিতে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।’ আর হাসান উদ্দিন সরকার ভোট দেন নিজ বাসভবন সংলগ্ন ৫৪ ওয়ার্ডের আউচপাড়ায় বছিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি স্কুল কেন্দ্রে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারকে ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ও শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন বলে জানান।

সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এই নির্বাচন ঘিরে জাতীয় নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছিল। এর ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবেÑ এমন ভাবনা থেকে জয় পেতে মরিয়া ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনী রাজনীতিতেও ছিল উত্তাপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুলনার মতো গাজীপুরেও বড় ভোটের ব্যবধানেই জয় পেল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে বেশ স্বস্তিতে দলটি। বড় ধরনের কোনো অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে অবস্থান আরো দৃঢ় হলো সরকারের। দলীয় প্রার্থীর জয় ও নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকায় সামনের নির্বাচনগুলোতেও ভালো করার স্বপ্ন দেখছেন দলীয় নেতারা। বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তারও প্রমাণ মিলল। অন্যদিকে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মাঠের রাজনীতিতে আরো কোণঠাসা হলো বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ জাতীয় নির্বাচনের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠের কর্মসূচিতে এখন খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির তৃণমূল যে খুবই অগোছানো ও বিশৃঙ্খলÑ এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তা স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন দলের নেতারা।

রংপুর ও খুলনার পর গাজীপুরেও ৬টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। এসব কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেন ভোটাররা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ব্যালটপেপার লুটসহ নানা অনিয়মের কারণে নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ৯টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ২৩ হাজার ৯৩৫। কেন্দ্রগুলো হলো, ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১), মেশিন ট্যুলস উচ্চ বিদ্যালয়, কুনিয়া হাজী আবদুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১), কুনিয়া হাজী আবদুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২), বিদ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টঙ্গীর জাহান পাবলিক দত্তপাড়া কেন্দ্র, খরতৈ মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয় (১), খরতৈ মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয় (২) ও হাজী পিয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থগিত ভোটকেন্দ্রে দ্রুতই ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

বিএনপি অবশ্য নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শতাধিক কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ করেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দলটি সব জায়গায় এজেন্ট দিতে পারেনি। তিনি বিএনপির করা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গাজীপুরে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুটি প্রতিনিধিদল দিনের পৃথক পৃথক সময়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে নাশকতার চেষ্টা করা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রমাণ হিসেবে বিএনপির নেতা মিজানুর রহমানের সঙ্গে এক ব্যক্তির টেলিফোনের কথোপকথনও ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন দাবি করেছে, স্থগিত হওয়া নয়টি কেন্দ্র বাদে বাকি ৪১৬টি কেন্দ্রে ‘কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন হয়েছে।

নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। নতুন ভোটার এক লাখ ১১ হাজার। শ্রমিক ভোটার ছিলেন দুই লাখের বেশি। কাউন্সিল পদে ৩৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৫৪ জন। সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে ৮৪ নারী কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here