Top news 24

রাজশাহী প্রতিনিধি

শীত এলেই বাঙ্গালীর রসনায় যুক্ত হয় খেজুর গুড়। তবে আমরা গুড়ের নামে কি খাচ্ছি? ক্ষতিকর সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড বা হাইড্রোজ, চুন, ফিটকারি আর চিনি দিয়ে তৈরি গুড়ই খেতে হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক খেলে কিডনি, লিভার বিকলসহ হতে পারে ক্যান্সারও।

এক দশক আগেও দাম বেশি বলে খেজুর গুড়ে চিনি মেশানোর কথা চিন্তাই করা যেতো না। এখন উল্টে গেছে পরিস্থিতি- একে চিনির দাম কম অন্যদিকে চিনি মেশানো গুড় দানাদার হয়, দেখতেও ভালো হয়। এ কারণে প্রায় সব গাছিই এখন খেজুর গুড়ে চিনি মেশান এখন। শুধু তাই নয়- খেজুর রসের চেয়ে চিনির পরিমাণটাই বেশি থাকে; বিষয়টি আর গোপন কিছুও নয়।

খাঁটি খেজুরগুড় দেখতে কালচে খয়েরি। কিন্তু তা ক্রেতাদের পছন্দ নয়। তাই রং হালকা করতে এখন ব্যবহার করা হয় ক্ষতিকর হাইড্রোজ, ফিটকারি ও চুন। ক্ষতিকর হলেও আকর্ষণীয় রংয়ের গুড়ের চাহিদা ও দাম থাকে বেশি।

কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক ব্যবহার ছেড়ে বনঢেড়স ব্যবহার করেও গুড়ের রং সুন্দর করা যেতে পারে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শামসুল আলম জানান, আমরা কৃষকদের বলেছি যে এটা আমরা যারা গুড় উৎপাদন করে যে আপনারা এ ধরনের কৃর্তিম রং দেওয়ার দরকার নাই। দাম যাই হোক খাঁটি গুড় তৌরি করবেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, যেকোন রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর। এসব সেবনে কিডনি, লিভার বিকলসহ হতে পারে ক্যান্সার।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার ঘোষ জানান, পাকস্থলিতে গিয়ে সেখানে ক্ষতের সৃস্টি করে। এই ক্ষত বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে এই ক্ষত থেকে ক্যান্সার তৌরি হতে পারে। তারপর এখান থেকে রাসায়নিকগুলো কিডনি দিয়ে বেড়িয়ে আসে, যার ফলে কিডনি ক্ষতি গ্রস্থ হতে পারে।

ক্রেতারা আকর্ষণীয় রং প্রীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই বন্ধ হবে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার। আর গাছিরা বিবেকবান হলেই কমবে চিনি ব্যবহার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here