top news 24

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে জমি ‘জবর দখল’ অভিযোগের শুনানি শুরু করেছে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি। শনিবার বেলা এগারটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ৫ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের কার্যালয়ে এ শুনানি হয়। প্রথম দিন ১৯টি অভিযোগের শুনানীতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষ তাদের পক্ষে বিপক্ষে কথা বলেন।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াত করে জায়গা জমি দখলের ঘটনার পর জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠিত কমিটির কাছে জমি জবর দখলের অভিযোগ জমা হতে থাকে। সম্পত্তি জবর দখল বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত কার্যক্রম মনিটরিং সংক্রান্ত জেলা কমিটির কাছে অন্তত ৯০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা পড়ে ১৯টি। কমিটির সদস্য পুলিশ সুপারের কাছে জমা পড়ে ৭১টি। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহ সভাপতি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধেই জমা পড়ে ৪০ টি অভিযোগ।

প্রথম দিনের শুনানীতে জমি জবর দখলে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহ সভাপতি রবিউল ইসলাম, তাঁর ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মফিজুল ইসলাম, খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার উপস্থিত ছিলেন।
রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, অনৈতিক কাজের অভিযোগ দ্বারা হত্যার হুমকি দিয়ে নামমাত্র মূল্যে জোর করে জমি দলিল করে নেওয়া। তার ভাই মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বালু ভরাট করে জোর করে দখল করা। এছাড়া খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতারের বিরুদ্ধের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিক জমি দখলের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা।

জেলা প্রশাসকের কাছে জমা পড়া অভিযোগের উভয় পক্ষের শুনানি করার জন্য গত বুধবার তাদের নোটিশ করা হয়। শনিবার বেলা এগারটায় ডিসির কক্ষে এ শুনানি শুরু হয়। সেখানে কমিটির সদস্য পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, সরকারি কৌশুলি অনুপ কুমার নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯টি অভিযোগের মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম ও তার ভাই মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তারাও হাজির হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেন।

বিকেল চারটায় শুনানি শেষে বের হবার পর জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, খুব ধৈর্য্য সহকারে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তর উভয়ের কথা শোনা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা কাগজপত্র দেখা হয়েছে। একটা সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানানো হবে। পর্যায়ক্রমে আরও শুনানি করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here