উন্নয়নের আলো নিয়ে অন্ধকারে থাকা পৌরবাসীর পাশে আবুল বাসার সুজন

সারোয়ার হোসেন, রাজশাহীঃ উন্নয়নের বার্তা নিয়ে প্রায় দুইযুগ ধরে অন্ধকারে থাকা রাজশাহীর তানোর পৌরবাসীর মনে আশার আলো ফুটিয়েছেন আবুল বাসার সুজন। তানোর পৌরসভায় আবুল বাসার সুজনের আগমনে আলোকিত হতে শুরু করেছে পৌরসভা। ধিরে ধিরে উন্নয়ন মুখি হয়ে উঠছে পৌরবাসীর জীবন মানোন্নয়ন। আবুল বাসার সুজন করোনাকাল থেকে শুরু করে ভয়াবহ দুর্যোগ বন্যায় যেভাবে পৌরবাসীর পাশে দাড়িয়েছে তাতে এইরকম ভাবে ওদের পাশে জনপ্রতিনিধি পৌর মেয়রদের দাড়ানো উচিৎ ছিল। কিন্তু পৌরবাসীর পাশে মেয়র কাউন্সিলর নেতারা কেউ ছিলোনা। ইতিমধ্যে আবুল বাসার সুজনের ব্যক্তিগত অর্থায়নে পৌর এলাকার যেসব রাস্তা ঘাট দিয়ে পথচারী যানবাহন চলাচলে সমস্যা হত সেইসব কাচা রাস্তা ঘাট ইট বালু খোয়া দিয়ে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন। প্রতিনিয়ত পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির গির্জায় উন্নয়ন মূলক কাজে করে যাচ্ছেন সহযোগীতা। অথচ এই পৌরসভায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে একের পর এক মেয়র চেয়ারে বসলেও এখন পর্যন্ত কেউ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। পারেনি পৌরবাসীর জীবন মানোন্নয়ন ঘটাতে। তবে পৌরবাসীর উন্নয়ন না হলেও মেয়রদের ঠিকই উন্নয়ন হয়েছে। এতে করে এবার পৌরবাসী দলমত নির্বিশেষ
সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী আবুল বাসার সুজনকে মেয়র নির্বাচিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তানোর পৌরবাসী। আবুল বাসার সুজনের আগমনে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পৌরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

জানা গেছে, তানোর পৌরসভা নির্মিত হওয়ার পর থেকে এই পৌরসভায় কোনদিন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বরাবরই পৌরসভাটি বিএনপির দখলে থাকে। এই পৌরসভায় বিএনপি সরকার আমলে প্রথম মেয়র হিসেবে পরপর দুইবার নির্বাচিত হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত এমরান আলী মোল্লা। কিন্তু সেই সময় প্রয়াত এমরান আলী মোল্লা সরকার দলীয় মেয়র হলেও দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেনি বা তাকে উন্নয়ন করতে সুযোগ দেয়া হয়নি। তবুও এমরান আলী মোল্লা পৌরবাসী তথা উপজেলা বাসীর কাছে ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যার জন্য তাকে পৌরসভা থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। এমনকি সে জনগণের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা কালিন মৃত্যু বরণ করেন। তার পর বর্তমান সরকারের আমলে আবারো পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত এইচএম মোখলেছুর রহমান ফিরোজ সরকার। ফিরোজ সরকার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে সরকারের সাথে সমন্নয় করে কাজ করাই একটু একটু করে পৌরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে শুরু হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে তাকে বিএনপি থেকে আর মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে। অবশ্য আবারো মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয় বিএনপির প্রার্থী মিজান। সে পৌরসভায় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে পারেনি। শুধু তাই না পৌরসভার উন্নয়নে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা কাজ না করেই নামমাত্র কাজ করে আত্মসাৎ করে আসছেন। এছাড়াও পৌরসভার ফান্ডে থাকা রাজস্ব উন্নয়নের টাকা পর্যন্ত ঠিক মত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করেনা। যে কারণে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বছর জুড়েই পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। অথচ ৫বছরেই বর্তমান মেয়রের হয়েছে রাজশাহী শহরে বাড়ী, সকাল বিকাল চেঞ্জ হয় গাড়ি। করেছেন প্রায় ১’শ বিঘা জমির উপরে বাগান বাড়ি। সব মিলিয়ে কোটি পতির তালিকায় মেয়র মিজানুর রহমান মিজানও একজন। অন্যদিকে এবার পৌরসভাটি আওয়ামী লীগের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নেতাকর্মীরা। আর আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পৌরবাসীও তাদের উন্নয়ন বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর। পৌরবাসী মনে করছেন যেহেতু দেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় সেহেতু উন্নয়ন পেতে হলে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। তবেই পৌরবাসীর উন্নয়ন হওয়া সম্ভব।

সারোয়ার হোসেন
১০ অক্টোবর /২০২০ইং

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here