top news 24

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকের প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন সাধারণ ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে পাচার করা হয়েছে সাইবার অপরাধীদের নিষিদ্ধ জগত ডার্ক ওয়েবে। সাইবার অপরাধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পারিটেকের বরাত দিয়ে শুক্রবার ইকনোমকি টাইমস ও ফোর্বস ম্যাগাজিন এ তথ্য দিয়েছে।

আরও দু’দিন আগেই কম্পারিটেক এই তথ্য চুরির বিষয়টি আবিস্কার করে। এটিই এখন পর্যন্ত ডার্ক ওয়েবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহকারীদের তথ্য চুরি করে পাচারের সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষার বিষয়টি এ সময়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের মুখে পড়েছে।

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের সাড়ে ২৩৫ কোটি ব্যবহারকারীর সংবেদনশীলণ তথ্য চুরি হয়ে গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে- ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা বিশেষ করে নাম, প্রোফাইলের পুরো নাম, প্রোফাইলের ছবি, অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত, ফলোয়ার সংখ্যা, লাইক সংখ্যা সবকিছুই বেহাত হয়েছে। আর এসব তথ্য চুরি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ডার্ক ওয়েবে। ডার্ক ওয়েব সাইবার দুনিয়ার এমন একটি জগৎ যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের দেখার বাইরে থাকে, কিন্তু অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সাইবার অপরাধীদের প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। এর বিরুদ্ধে বার বার অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ গোয়েন্দা সংস্থাও ব্যর্থ হয়েছে। ডার্ক ওয়েবে সাধারণ গ্রাহকের সংবেদনশীল তথ্য চলে যাওয়াকে তাই বড় ঝুঁকি হেসেবেই বিবেচনা করা যায়।

ফোর্বসের খবরে বলা হয়, কম্পারিটেকের গবেষকরা বলছেন- যারা এবার তথ্য চুরি করেছে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। কারণ তারা ব্যবহারকারীর সবগুলো প্রোফাইলে দেওয়া ফোন নম্বর অথবা ইমেইল ঠিকানাও নিয়ে নিয়েছে। সাধারণত, ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা শুধু নিজের দেখার জন্য ‘অনলি মি’ অপশন দেওয়া থাকলে সেগুলো বন্ধু তালিকারও কেউ দেখতে পায় না, এগুলোও কপিও করা যায় না। কিন্তু এবার এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যও গণহারে কপি করে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে সাইবার অপরাধীরা।

ইকোনোমিক টাইমস কম্পারিটেককে উদ্ধৃত করে জানায়, কম্পারিটেকের গবেষকরা প্রথমে ডার্ক ওয়েবে ইউটিউব, ইন্সটাগ্রামের ব্যবহারকারীদের ডাটার সন্ধান পেয়েছে। এরপর আরও সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়- ডাটাগুলো আছে তা ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটক ব্যবহারকারীর। প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন গ্রাহকের ডাটার অস্তিত্ব পাওয়া যায়, এর মধ্যে টিকটক গ্রাহকদের তথ্যই এককভাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ। বাকি ৫৫ শতাংশ ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের। তবে এবার কারা কিভাবে এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সংবেদনশীল তথ্য চুরি করল, সে সম্পর্কে শুক্রবার পর্যন্ত জানাতে পারেনি কম্পারিটেক। তবে যারাই চুরির কাজ করেছে তারা সাইবার দুনিয়ায় সুসংহত এবং সুসংঘবদ্ধ বলে মনে করছেন কম্পারিটেকের গবেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here