আশুগঞ্জের আর জে টাওয়ার হোটেল এন্ড রিসোর্ট এ বিপুল পরিমান অনুমোদনবিহীন বিদেশী মদ ও বিয়ার’সহ ২২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

মোঃ জামাল উদ্দিন
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার শরিয়তনগরে অবস্থিত আর জে টাওয়ার হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিঃ বৈধ ব্যবসায়ের আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। কেবলমাত্র রিসোর্ট এর ভিতরে মদ পরিবেশন করার কথা থাকলেও তারা নিয়মিতভাবে রিসোর্টের বাহিরে বিদেশী মদ’সহ বিয়ার বিক্রয় করে। এছাড়াও তারা অনুমোদনবিহীন বিদেশী মদ ও বিয়ার সংগ্রহ ও পরিবেশন করে থাকে। উক্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উক্ত মাদক ব্যবসায়ী চক্রের উপর র‌্যাবের নিরবিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা নজরদারী চালানো হয় এবং তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এবং স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ৩০/১০/২০২০ ইং তারিখ ০৪.৩০ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ আর জে টাওয়ার হোটেল এন্ড রিসোর্র্ট লিঃ অভিযান পরিচালনা করে ১। মোঃ ফেরদৌস চৌধুরী (৩৪), পিতা-হারুনুর রশিদ চৌধুরী, সাং-ট-৭৭ মধ্য বাড্ডা থানা-বাড্ডা, জেলা-ডিএমপি-ঢাকা, ২। মোঃ আলাউদ্দিন (২৪), পিতা-মোঃ আজিজুল হক, সাং-জামুকিপুর, থানা-নকলা, জেলা-শেরপুর, ৩। আকমল হোসেন (৪২), পিতা-সালাম খান, বেল্লাবাড়িয়া, থানা-কালিয়া কান্দি, জেলা-রাজবাড়ী, ৪। মনিরুজ্জামান (২৪), পিতা-আবু সিদ্দিক খান, সাং-রাজেন্দ্রপুর, থানা-নেত্রকোনা, জেলা-নেত্রকোনা, ৫। আশিক (২৫), পিতা-হাদিছুর রহমান, সাং-দুররা, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ, ৬। মোঃ রুবেল (২৩), পিতা-মৃত সফর আলী, সাং-বড়চা, থানা-বিজয়নগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭। মুন্না (২৩), পিতা-তাজুল ইসলাম, সাং-বড়ইছড়া, থানা-সরাইল, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৮। সাইফুল ইসলাম(২৭), পিতা-আব্দুস সালাম, সাং-কাটালিয়া ঘাট, থানা-দোহার, জেলা-ঢাকা, ৯। মোঃ হায়দার (২৮), পিতা-মুত বড়াত প্রমানিক, সাং-অলিপুর, থানা-উল্লাপাড়া, জেলা-সিরাজগঞ্জ, ১০। মোঃ জাকির হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত বাচ্চু মিয়া, সাং-পূর্ব মেড্ডা, ১১। শাহিনুর (৩৫), পিতা-জহিরুল হক, সাং-দক্ষিন জগৎসার, ১২। মোঃ শাহজাহান (৪৫) ফুল মিয়া সরদার, সাং-কাউতলী, ১৩। মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪২), পিতা-হাজী রমিজ উদ্দিন, ভাদুঘর, ১৪। মনির ঠাকুর (৩৫), পিতা-মৃত হান্নান ঠাকুর, সাং-চান্দপুর, সর্বথানা ও জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৫। জুয়েল রানা(২৩), পিতা-আব্দুল মালেক মিয়া, সাং-বাড়–য়ামারী, থানা ও জেলা-জামালপুর, ১৬। রুবেল মিয়া (২৭), পিতা-মোরশেদ আলম, সাং-বগাদী, থানা-মনোহরদী, নরসিংদী, ১৭। জব্বার (২৩), আব্দুল অহেদ খান, সাং-মকিমাবাদ, থানা-বাকেরগঞ্জ, জেলা- বরিশাল, ১৮। মোঃ আল আমিন (২৭), পিতা-ইলিয়াস খান, সাং-রায় তাতেরকাটি, থানা-বাউফল, পটুয়াখালী, ১৯। ইকবাল (২৫), পিতা-আব্দুল হাই, সাং-চারারবন, ২০। মান্না মিয়া (২৪) পিতা-রুহুল আমিন, সাং-কলিয়ার কান্দি,২১। মোঃ তন্ময় মোল্লা (২৪), পিতা-সোলায়মান ভুইয়া, সাং-বেথিয়ার কান্দি সর্ব থানা-কুলিয়ার চর, জেলা-কিশোরগঞ্জ, ২২। নবী হোসাইন (২৮), পিতা-নুরা মিয়া, সাং-রাজনগর, থানা-ভৈরব, জেলা-কিশোরগঞ্জ’দেরকে আটক করা হয়।
৩। আটককৃত ব্যক্তিদের নিকট হতে (ক) বিভিন্ন ব্যান্ডের অনুমোদনহীন হুইস্কি ও ভোদকা জাতীয় বিদেশী মদ ৭৬ বোতল (খ) ৭২ ক্যান বিদেশী ভোদকা, (গ) ১৩১ ক্যান বিদেশী বিয়ার এবং (ঘ) মাদক বিক্রির নগদ ১,৬৮,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
৪। কেবলমাত্র রিসোর্ট এর ভিতরে মদ পরিবেশন করার কথা থাকলেও তারা নিয়মিতভাবে রিসোর্টের বাহিরে বিদেশী মদ’সহ বিয়ার বিক্রয় করে এবং অনুমোদনবিহীন বিদেশী মদ ও বিয়ার সংগ্রহ ও পরিবেশন করে থাকে। শর্তানুযায়ী লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের নিকট মদ ও বিয়ার পরিবেশন করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তারা শর্ত ভঙ্গ করে লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের নিকট মদ বিক্রয় ও পরিবেশন করে।
৫। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অনুমোদনকৃত ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে মদ পরিবেশন ও বিক্রয় করার কথা থাকলেও অনুমোদনহীন ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে পরিবেশন ও বিক্রয় করে থাকে। এছাড়াও তারা বিদেশী মদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।
উক্ত ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here