আগামীকাল গণভবনে দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিশেষ প্রতিনিধি : 

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। নির্বাচন সামনে রেখেই সারা দেশের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভার আহ্বান করা হয়েছে। আগামীকাল দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বেলা ১১টায় এই বিশেষ বর্ধিত সভা হবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে। এ সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বিশেষ বর্ধিত সভা হবে বলে জানিয়েছেন দলের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (আগামীকাল) ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন। পরে বেলা ১১টায় তিনি দলের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভা করবেন।

সভায় ৪ হাজার ১৫৭ নেতা বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৫ জন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা। ১২২ জন কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে কার্যনির্বাহী সংসদের ৮১ এবং উপদেষ্টা পরিষদের ৪১ জন রয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের মধ্যে জাতীয় পরিষদের ৯৯, জেলা-মহানগরের ১৫৬ জন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার ৯৮৪ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পৌরসভার ৬৪৬ জন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, সংরক্ষিত মহিলাসহ ২৮৯ জন দলীয় এমপি, ১১টি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ৯৬টি থানা কমিটির ১৯২ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় ২৬ জন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, সিটি করপোরেশনের পাঁচজন মেয়র, ৪৮ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৩৩৬ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ৩৩০ জন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ), ৩২৬ জন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা), ২১৬ জন পৌর মেয়র, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওয়ার্ডের ২৫৮ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওয়ার্ডের ১২৪ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপস্থিত থাকবেন।

সভায় সরকারের উন্নয়ন প্রচার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনামূলক উন্নয়ন চিত্র তুলে নৌকার পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের মধ্যে যারা ভাঙন সৃষ্টি করছে বা দ্বন্দ্ব জিয়ে রাখছে তাদের বিষয়েও নির্দেশনা থাকবে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের বাইরে যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চায় তাদের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা থাকবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে সারা জীবনের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশনাও আসতে পারে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। প্রায় দুই যুগ পর এ দলটির নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। দলটির বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পরে এটিই হলো দ্বিতীয় বিশেষ বর্ধিত সভা। এর আগে গত বছর ২০ মে গণভবনে আরেকটি বর্ধিত সভা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here