Top news 24

অনলাইন ডেস্ক

আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্যপদ হারাচ্ছেন আলোচিত ব্যবসায়ী নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের ভুঁইফোড় একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তার নাম আসায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে। যে কোনো সময়েই তার বরাবরে অব্যাহতির চিঠি যাবে বলে জানা গেছে।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা উপকমিটির সদস্য সচিব মেহের আফরোজ চুমকি গতকাল রাতে সমকালকে বলেছেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড দলের আদর্শ এবং মহিলা বিষয়ক উপকমিটির নিয়ম-নীতির সঙ্গে খাপ খায় না। এই কারণে তাকে মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অলরেডি তাকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি তৈরি করতে বলে দেওয়া হয়েছে। অচিরেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের এই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

দলীয় সূত্রমতে, নামের সঙ্গে ‘লীগ’ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অননুমোদিত একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পরই হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দেওয়ার এই পদক্ষেপ নেয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি। এই উপকমিটিতেই সদস্যপদ পেয়েছিলেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে থাকা হেলেনা জাহাঙ্গীর। যদিও তার পদপ্রাপ্তির পর থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেইসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে। এতে করে গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। জয়যাত্রা গ্রম্নপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দন।

জানা যায়, আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি রাজনৈতিক ভুঁইফোড় সংগঠন খুলে সেখানে নিজেকে সভাপতি এবং মাহবুব মনিরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। গত দু’দিন ধরে এই সংগঠনে জেলা-উপজেলা ও বিদেশ শাখায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টার ছাপা হয়। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ওই পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গত দু’তিন বছর ধরেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংগঠনটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি রাজনৈতিক ভুঁইফোড় সংগঠনের পোষ্টার প্রকাশের পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পুরনো দু’টি ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এক ফেসবুক পোস্টে জবাবও দিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়া ও অন্যান্যদের সাথে যে ছবিগুলো ভাইরাল হচ্ছে সেটা বিয়েতে এসেছিল তখন তোলা ছবি এবং এই ছবিগুলা আমি নিজেই ফেসবুকে দিয়েছিলাম।

তার দাবি, ‘আমি একজন প্রকৃত ১০০% ব্যবসায়ী ও সরকারের একজন কমার্শিয়ালি ইমপোর্টেন্ট পার্সন। সেখান থেকে রাজনীতিতে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছোটবেলা থেকেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদেরকে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে যেতে হয়। একটা ছবি মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে না।’

এর আগে একই কারণে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগও তাদের কমিটিতে উপদেষ্টা পদে থাকা হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেছেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ জুন এই সংক্রান্ত চিঠি ডাকযোগে পাঠানোও হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে একটি গণমাধ্যমকে শনিবার বিকেলে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে উপকমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কোনো চিঠি আমি পাইনি। দলীয়ভাবে কেউ কিছু বলেওনি। আর আমি তো কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা।’

আওয়ামী চাকরিজীবী লীগে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার না করে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরিজীবী লীগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। আমাকে এই কমিটিতে সভাপতি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাই অনেকেই ফেসবুকে দিয়েছেন। যেহেতু আমাকে সভাপতি বানানোর কথা ছিল, সেই হিসেবে কেউ হয়ত বা দিয়েছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here