Top news 24

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দু’দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বেড়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪৭টি ইউনিয়নের ৬০ হাজারের অধিক পরিবার। পানির তোড়ে ভেসে গেছে ৯ হাজার চিংড়ি খামার ও সাড়ে ৭ হাজার পুকুরের মাছসহ ২৫০টি খামারের শিলা কাঁকড়া। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত।

চরম দুর্ভোগে পড়া শরণখোলা, মোংল, মোরেলগঞ্জ, রামপাল উপজেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া হাজারো মানুষ ১৬টি সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে, মোরেলগঞ্জের পানগুছি, শরণখোলার বলেশ্বর, মোংলার পশুর, বাগেরহাটের ভৈরব, দড়াটানাসহ সব নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বেড়েছে।
শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, এই দুটি উপজেলায় বুধবার রাত থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়া দুর্গতরা সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। শরণখোলা ১৩টি ও মোংলায় ৩টি সাইক্লোন সেল্টারে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষথেকে পানিবন্দি ও সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় দুর্গতদের রান্না করা ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাইক্লোন সেল্টারে আসতে ইচ্ছুক পানিবন্দিদের সেখানে নিয়ে আসতে রেড ক্রিসেন্টসহ জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন। অতিবৃষ্টিতে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পাড়ছে না।

বৃহস্পতিবার দিনভর মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম।

শরণখোলা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় অর্ধশত পরিবারসহ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শরণখোলা ১৩টি সাইক্লোন সেল্টারে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে আউশ ও আমনের বীজতলার ৮০ ভাগই পানিতে ডুবে রয়েছে। শাক-সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসলও তলিয়ে গেছে। মাছের খামার ও পুকুর তলিয়ে ভেসে গেছে প্রায় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here