কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতির সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

আজ রোববার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন। তবে ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ৪০-৫০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।

এরপর তাঁদের ধাওয়া দিলে কয়েকজন গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে যায়। কয়েকজনকে গ্রন্থাগার চত্বর দিয়ে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ব্যানার নিয়ে চলে যায়।

এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরিবহন মার্কেট দিয়ে শোডাউন দিয়ে পুনরায় গ্রন্থাগারের সামনে এসে অবস্থান নেয়। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বাইক নিয়ে শোডাউন দেন।

তবে ধাওয়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা কাউকে ধাওয়া দিইনি। স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়েছি।’

‘যারা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখে না, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না,’ যোগ করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রায় দেড়শ জন মানববন্ধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে আমাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় আমাদের পাঁচ-ছয়জন আন্দোলনকারীকে মারধর করেন।’

এর আগে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কোটা সংস্কারের নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু শনিবার রাতে তাঁর ফেসবুকে লিখেন, ‘আগামীকাল (রোববার) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা চলবে। কোটা আন্দোলনের নামে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে।’

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে ১০ জনের মতো আহত হন। আহতরা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

তবে হামলা ও মারধরের ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর পর পরই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ অধিকার ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা করা হয়েছে এবং সারা দেশে বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীরা এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here